মহাকাশ সংবাদ

মিল্কিওয়ের ভেতরেও পানি আছে?

যেখানে আলোও পালাতে পারে না, যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায়, যেখানে প্রচণ্ড মহাকর্ষ আপনাকে নুডুলসের মতো টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারে। সেই সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের একদম নাকে, যেখানে থাকার কথা নরকেরও নরক, সেখানে বিজ্ঞানীরা কী পেলেন? পানি। হ্যাঁ, সাধারণ পানির বাষ্প।

এটা কিন্তু কোনো সায়েন্স ফিকশন গল্প না। ২০২৬ সালের আগস্টে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এমন একটা খবর দিল যে জ্যোতির্বিদ্যার সব পাঠ্যবইয়ে নাকি নতুন অধ্যায় যোগ করার পালা। আমাদের মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে যে বিরাটাকার ব্ল্যাকহোল ধনু A* (Sagittarius A*), তার থেকে মাত্র ০.৫৫ আলোকবর্ষ দূরে যা মহাজাগতিক স্কেলে নাকের ডগার দূরত্বে আছে IRS 3 নামের এক মৃতপ্রায় তারা।

এখন এই IRS 3 হচ্ছে বুড়ো হয়ে যাওয়া এক তারকা, যে তার শেষবেলায় হাঁপাতে হাঁপাতে নিজের শরীরের বাইরের স্তরগুলো উগরে দিচ্ছে মহাকাশে। JWST-এর MIRI ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে যখন বিজ্ঞানীরা এর চারপাশের ধুলোর দিকে তাকালেন, তখন দেখলেন এই ধূলিকণার আবরণটা প্রায় ১০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট জুড়ে বিস্তৃত। মানে সূর্য থেকে পুরো সৌরজগতের চেয়েও অনেক বড় এলাকা। আর সেই ধুলোর ভেতরেই লুকিয়ে ছিল জলীয় বাষ্পের স্বাক্ষর।

আমার মনে হচ্ছে, এটা অনেকটা এমন যে যেন জ্বলন্ত চুলার মুখে এসে আপনি বরফের টুকরো পেয়ে গেলেন। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির বিজ্ঞানী ম্যাকারেনা গার্সিয়া মারিন তো বলেই দিয়েছেন, এটা প্রমাণ করে যে আণবিক পদার্থ মরার মুখেও টিকে থাকতে পারে। আর প্রধান গবেষক ফ্লোরিয়ান পেইসকার তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলছেন, এই মৃত তারা হয়তো নতুন তারকা আর গ্রহের জন্য কাঁচামাল জোগাচ্ছে।

এখনো পর্যন্ত কেউ বলছে না যে ওখানে প্রাণ আছে বা থাকবে। কিন্তু ব্যাপারটা হলো, মহাবিশ্বের সবচেয়ে নিষ্ঠুর জায়গাটাও যে সম্পূর্ণ বন্ধ্যা নয়, সেটা বুঝতে পারাটাই বড় কথা। ধ্বংসের মুখেও সৃষ্টি থেমে থাকে না। একটা মৃতপ্রায় তারা, ব্ল্যাকহোলের চোখরাঙানির ভেতরেও হয়তো ভবিষ্যতের কোনো অজানা সৌরজগতের বীজ বুনে যাচ্ছে। এই আবিষ্কারটা সত্যিই অভূতপূর্ব, কারণ এটা মনে করিয়ে দেয় যে মহাবিশ্ব যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিস্ময়।

সূত্র ও ছবি: ESA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button