মহাকাশের বিশালতা সম্পর্কে চিন্তা করলে মাথা ঘুরে যায়। অগণিত তারা আর গ্রহের এই বিরাট জগতে আমরা কি সত্যিই একা? এই প্রশ্নই বিজ্ঞানীদের চালিত করে নতুন পৃথিবীর সন্ধানে। আর সম্প্রতি তারা তেমনই এক সম্ভাব্য ‘দ্বিতীয় পৃথিবী’ খুঁজে পেয়েছেন, যার নাম GJ 251 c . বিষয়টি আরও মজার কারণ এই গ্রহটি আমাদের মহাজাগতিক প্রতিবেশী, মাত্র ১৮ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
এই গ্রহটির বিশেষত্ব কোথায়? প্রথমত, এটি তার নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চল বা গোল্ডিলকস জোনে’ম অবস্থিত। অর্থাৎ এই অঞ্চলের দূরত্বটি ঠিক এমন যে গ্রহের পৃষ্ঠে তাপমাত্রা খুব বেশি বা খুব কম না হয়ে তরল জল থাকার মতো উপযুক্ত হতে পারে, যা জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিতীয়ত, এই গ্রহটি পৃথিবীর চেয়ে প্রায় চার গুণ ভারী, তাই বিজ্ঞানীরা একে সুপার-আর্থ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন । এটি খুব সম্ভবত পাথুরে, অর্থাৎ পৃথিবীর মতোই কঠিন ভূ-পৃষ্ঠের অধিকারী, যা সেখানে জীবন গঠনের জন্য আরও আশা জাগায়।
GJ 251 c-এর আবিষ্কার কিন্তু সহজ ছিল না। এটি সরাসরি দেখা যায়নি, বরং বিজ্ঞানীরা রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। গ্রহটির মাধ্যাকর্ষণ টানে এর মাতৃ নক্ষত্রটি খুব ধীরে ধীরে দোলে। এই অতিসূক্ষ্ম দোলন ধরা পড়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্র হ্যাবিটেবল-জোন প্ল্যানেট ফাইন্ডার এবং NEID-এর মাধ্যমে।
মজার ব্যাপার হলো, এই নক্ষত্রটির আগে থেকেই আরেকটি গ্রহ GJ 251 b-এর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, যা মাত্র ১৪ দিনে নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু ২০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা একটি নতুন ও শক্তিশালী সংকেত পান—যা একটি দ্বিতীয় গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে, যে গ্রহটি তার নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ৫৪ দিন।
যদিও আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিজ্ঞানীরা এখনও এটিকে প্রার্থীগ্রহ বলছেন। কারণ, মাতৃ নক্ষত্রটি একটি M-বামন বা লাল বামন, যেগুলো অত্যন্ত সক্রিয় এবং প্রায়ই প্রচণ্ড শিখা ও কলঙ্কের সৃষ্টি করে। এই নক্ষত্রীয় কার্যকলাপ গ্রহের সংকেতকে নকল করতে পারে, তাই নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে নির্মীয়মান ৩০-মিটার-শ্রেণির টেলিস্কোপ, যেমন থার্টি মিটার টেলিস্কোপ। হয়তো এই গ্রহটিকে সরাসরি দেখতে পারবে এবং এর বায়ুমণ্ডলে জলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারবে। এটি আমাদের জন্য এক অবিশ্বাস্য সুযোগ।আমাদের এত কাছের একটি গ্রহ সম্পর্কে জানার, যেখানে হয়তো জীবনের ভিত্তি exists। এখন শুধু অপেক্ষা সেই প্রযুক্তির, যা আমাদের এই মহাজাগতিক প্রতিবেশী সম্পর্কে আরও গভীরে জানতে সাহায্য করবে।
Image credit: ESO/M. Kornmesser

